শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন: ৩৫ ড্রেজারসহ ১৬১ জলযান কেনার প্রকল্পের অগ্রগতি ৫৩ শতাংশ

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিআইডব্লিউটিএর প্রায় ৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।

দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৩৫টি ড্রেজারসহ মোট ১৬১টি জলযান ও সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার কিছু বেশি; সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পুরো অর্থ আসছে সরকারি তহবিল থেকে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি ড্রেজারের সঙ্গে ১২৬টি সহায়ক জলযান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আছে ক্রেনবোট, টাগবোট, স্পিডবোট, পণ্যবাহী বার্জ ও হাউসবোট। এ ছাড়া ১৭টি মাটি কাটার যন্ত্র, ১২টি ডাম্প ট্রাক ও একটি প্রশিক্ষণ সিমুলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ড্রেজিং সক্ষমতা ৩২৬ দশমিক ৬৭ লাখ ঘনমিটার বাড়ানো।

কক্সবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, পাইকগাছা ও জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার বেইজ, আবাসন, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও কারিগরি সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ২২০ কোটি টাকা। নতুন ড্রেজার কেনার জন্য দরপত্র ডাকা, মূল্যায়ন ও চুক্তির কাজ চলছে; সংশোধিত ক্রয়পরিকল্পনায় কয়েকটি ড্রেজার কেনায় ৮৯১ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম এবং নৌপথ সচল রাখতে নদীর নাব্যতা রক্ষার বিকল্প নেই।