শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

মাদারগঞ্জে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন, পাইকারিতে কেজি ১৭-১৮ টাকা; খুচরায় ৪০-৫০, হতাশ কৃষক

জামালপুরের মাদারগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচ চাষ হলেও উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বেশি হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ১৮ টাকায়, অথচ কয়েক দফা হাতবদলের পর সেই মরিচই খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের এ বিশাল ব্যবধানে একদিকে কৃষকেরা লোকসানের শঙ্কায় আছেন, অন্যদিকে ক্রেতারা বাড়তি দামে মরিচ কিনছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, অর্থাৎ ৩০০ হেক্টর বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষ হয়েছে।

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক তাহেরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরেক কৃষক জহুরুল খান জানান, তাঁর বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় ২৫ হাজার টাকা, অথচ এ পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী এলাকার কৃষক বেলাল ফকির বলেন, ফলন ভালো হলেও দাম কম, উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক মরিচ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এবার মরিচের ভালো ফলন হয়েছে এবং উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচ সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে দাম কিছুটা কম।