জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আল-মামুন মিয়াকে অপসারণের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা এবং এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন করার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে সংগঠনটি এ দাবি তুলেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রদল বলেছে, ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা এবং বক্তার বারবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ বলার সময় জেলা প্রশাসক নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসককে অপসারণ করা না হলে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ ও সাধারণ সম্পাদক কে এম শাকিল হোসেনের নির্দেশনায় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাঈম ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি গোলাম মাহফুজ বলেন, আলোচনা সভায় তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের অপসারণ চাই। তাঁর অপসারণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি।’
শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভায় এ নিয়ে হট্টগোল হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ বললে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। এর আগে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া। ব্যানারে ছবি না থাকার বিষয়ে তিনি শনিবার বলেছিলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। ছাত্রদলের দাবির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে রোববার সকালে সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।