পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন কাঁচা তামাকে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো আছে কি না, তা যাচাই করছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১০ কনটেইনার তামাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, সাধারণ টেবিল টেস্টে তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরছিল না। তাই এর মধ্যে অন্য কোনো ক্ষতিকর পদার্থ বা রাসায়নিক মেশানো আছে কি না, সে সন্দেহ তৈরি হয়েছে; খালি চোখে তা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। প্রতিটি কনটেইনার থেকে পর্যাপ্ত নমুনা নিয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তে অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড বন্ড সুবিধায় ১০ কনটেইনার কাঁচা তামাক আমদানি করেছে। বাণিজ্যিক নথিতে দুবাইয়ের ‘টেট্রা ট্রেড এফজেডসিও’ এবং পাকিস্তানের ‘আলী লিফ ট্রেডার্স’-এর নাম রয়েছে। চালানটি ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় এবং পরদিন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। তবে শুল্কায়ন ও খালাসের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটকে দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তামাকের আমদানিমূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। চালানে প্রতি কেজির দাম ঘোষণা করা হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ ডলার। তাঁদের ভাষ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে এই তামাক খোলাবাজারে চলে গেলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাত এবং বৈধ সিগারেট প্রস্তুতকারকেরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ত।
এর আগে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকোর কুষ্টিয়ার কারখানায় অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালান খালাসের সুযোগ নেই। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের অতীত কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের কোম্পানি শতভাগ রপ্তানিমুখী এবং প্রাপ্যতা অনুযায়ী কাঁচামাল আমদানি করেছে। তাঁর দাবি, কাঁচা তামাকে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সহজে আগুন ধরার কথা নয়। তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্তে তাঁরা সহযোগিতা করবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে ১ কোটি ৩ লাখ ডলারের (প্রায় ১২৭ কোটি টাকা) তামাক রপ্তানি করেছে।