চট্টগ্রামে এবার আমনের ভালো ফলনের আশা থাকলেও ধানের দাম কম ও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকদের লাভ সীমিত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে।
সন্দ্বীপের সন্তোষপুর ইউনিয়নের কৃষক নাজিম উদ্দিন এবার প্রায় ৬৫ একর জমিতে আমন চাষ করেছেন। তাঁর হিসাবে ভালো ফলন হলে স্থানীয় কানিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ধান কাটার আগেই প্রতি কানিতে প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে; কাটার খরচ যোগ হলে তা ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা হবে। অথচ প্রতি মণ ধান বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়।
ধান কাটার একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা, সঙ্গে তিন বেলা খাবার দিতে হয়; সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। নাজিম উদ্দিনের হিসাবে কানিপ্রতি আয় হতে পারে ৩০ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা; খরচ বাদ দিলে সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ হাজার টাকা থাকতে পারে। ফলন ও দাম কম হলে লাভ প্রায় থাকবে না।
বাঁশখালীর সাধনপুরের কৃষক আবদুল হাকিম গত মৌসুমে মণপ্রতি গড়ে এক হাজার টাকায় ধান বিক্রি করে খরচ বাদে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার দুই কানিতে ব্রি ধান-৮৭ চাষ করেছেন, তবে দাম নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। চন্দনাইশের কৃষক মোতালেব ইসলামও বলেন, ধানের দাম সেভাবে বাড়ছে না। নাজিম উদ্দিন সার সংগ্রহেও ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন; প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে তাঁকে। সরকারি ব্যবস্থায় ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাছেই বিক্রি করতে হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে আমনের আবাদ কিছুটা কমলেও উৎপাদন বেড়েছে ২০ হাজার টনের বেশি; উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের বিস্তারে ফলন বাড়ছে। চট্টগ্রামের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, আমন ফলন পেতে সাড়ে তিন থেকে চার মাস লাগে, আর অনেক সবজি দেড় থেকে দুই মাসে আয় দেয়; এ কারণে কেউ কেউ সবজির দিকে ঝুঁকছেন।