শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

‘স্নাইপারের অভাব’ মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার পবার তরুণ কারাগারে, ছাড়া পেলেন বাবা

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে ফেসবুক মন্তব্যের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকার আদালত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবিতে ফেসবুকে ‘ইস, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাজশাহীর তরুণ মো. আবু বকর সিদ্দিককে (২২) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে আমরা এ ঘটনায় তাঁর ও তাঁর বাবাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার খবর দিয়েছিলাম। দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে।

নয়া দিগন্ত জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আগের দিন আটক হওয়া তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককে প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনামেও বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার খবর এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইকের আবেদনে বলা হয়েছে, ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি আইডি থেকে আলোচিত মন্তব্যটি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ আছে।

পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফোন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এজাহারে উল্লিখিত অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করতে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলাটি করেছেন।

এখানে উল্লিখিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।