বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা

জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির দিন রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে চায় তার সরকার। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হবে যাতে নির্বাচন কমিশনকে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই, অর্থাৎ রমজান শুরুর আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত হয়। তার আগে বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন তিনি।

ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "সংস্কার, বিচার ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান—এই তিনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ। এবার আমাদের সর্বশেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পালা—একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর।"

উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসান ঘটে। তার তিন দিন পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকেই বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন অধ্যাপক ইউনূস। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এবার সেই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস নির্বাচনকে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই এবারের নির্বাচন হোক ইতিহাসে স্মরণীয়—আনন্দ-উৎসব, শান্তি-শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতায় ভরপুর।”তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফলে গত ১৫ বছর ধরে বহু নাগরিক ভোট দিতে পারেননি। এবার তারা সেই বঞ্চিত আনন্দ মহাআনন্দে রূপ দিতে পারবেন।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বহু নতুন ভোটার, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। এমন অনেক ভোটার থাকবেন, যারা অতীতে ভোট দেওয়ার যোগ্য হলেও কোনো দিন ভোট দিতে পারেননি। এবারের নির্বাচন তাদের জন্য এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “ভোটের দিন যেন ঈদের আনন্দে পরিণত হয়। আপনারা সবাই সন্তানদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন—এটা হবে গণতন্ত্রের উৎসব।”

অধ্যাপক ইউনূস তার ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সাফল্যও তুলে ধরেন এবং একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন আমাদের জাতির নবযাত্রার ভিত্তি স্থাপন করবে।”