জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার ও গণশুনানির দাবিতে যুব ফেডারেশনের বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং গণশুনানির মাধ্যমে দাম নির্ধারণের দাবিতে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন একটি যুব বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা সরকারের এই পদক্ষেপকে 'গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এক লাফে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গোলাম মোস্তফা আরও সতর্ক করে বলেন যে, যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং সারাদেশে জনঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়বে। তিনি এই সংকটের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন এবং পুনর্গঠনের ও ঐকমত্যের রাজনীতিকে দেশের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
যুব ফেডারেশনের সদস্য জুলহাসনাইন বাবু ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক গণশুনানি বাতিলের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গণশুনানি জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল, যা বাতিল করা হয়। তিনি বর্তমান সরকারকে 'পতিত আওয়ামী লীগের' পথ পরিহার করার আহ্বান জানান।
সংগঠনের সদস্য সচিব জাহিদ সুজন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের মূল্য ও গাড়িভাড়া বেড়েছে। তিনি এই সংকটকালে প্রয়োজনে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার দাবি জানান। বাংলাদেশ বহু-দক্ষ শ্রমিক ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও খেটে খাওয়া জনগণ।
জাহিদ সুজনের সঞ্চালনায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুসা কালিমুল্লাহ, রাজা আহমেদ জুম্মান ও ইরিন আক্তার। এছাড়াও রুবেল মিয়া হিমু, জাসেম আলম, কবি রাসেল এবং গণসংহতি আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলিফ দেওয়ান বক্তব্য রাখেন।