জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা বিভাগ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করবে। জুলাই গণহত্যার বিচারসহ কয়েকটি দাবিতে ডাকা এই কর্মসূচির প্রথম পথসভা হবে শরীয়তপুরের নাওডোবায়। সেই স্থান ঘুরে দেখে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, কর্মসূচি ঘিরে তাঁরা ‘সর্বাত্মক’ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নাওডোবায় প্রস্তুতি পরিদর্শন
দৈনিক আমার দেশ জানায়, পথসভার স্থান পরিদর্শনে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন। সঙ্গে ছিলেন ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা বদরুদ্দীন, শরীয়তপুর জেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব হাশেমী ও মাদারীপুর জেলা আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে নেতারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তাঁদের দাবি, নাওডোবার পথসভায় সাধারণ মানুষের বড় জমায়েত হবে।
পিছিয়ে যাওয়া তৃতীয় লংমার্চ
এটি জোটের তৃতীয় লংমার্চ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলার খবর অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট ঘোষিত মূল সূচিতে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের তারিখ ছিল ১০ অক্টোবর। পরে প্রথম আলো জানায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের লংমার্চ হবে ৩১ অক্টোবর এবং এর সমাপনী হবে কুষ্টিয়ায়। তারিখ বদলের কারণ ওই প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করেছে জোটটি। চট্টগ্রামমুখী কর্মসূচিতে জামায়াতের পাশাপাশি এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ শরিক দলগুলোর নেতারা বক্তব্য দেন বলে বিডিনিউজ জানিয়েছিল। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, সিলেটমুখী লংমার্চ হওয়ার কথা ২১ নভেম্বর।
যেসব দাবি সামনে রাখছে জোট
ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের বরাতে বলা হয়, শুরুর ছয় দফা পরে সাত দফায় রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে আছে:
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন ডাকা
- জুলাই গণহত্যার দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট দূর করা
- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাস বন্ধ
প্রথম আলো জানিয়েছে, রংপুরের কর্মসূচিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যোগ হয়েছিল এবং পরের কর্মসূচিগুলোতেও আঞ্চলিক দাবি যুক্ত হতে পারে। তবে খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে নতুন কোনো আঞ্চলিক দাবি থাকছে কি না, কিংবা নাওডোবার পরে কোথায় কোথায় পথসভা হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।