কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তরুণ-তরুণী আহত, একজন ঢামেকে প্রেরণ
গতকাল সন্ধ্যায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বিশাল মিয়া ও রহিমা বেগম নামের দুজন ছিনতাইয়ের শিকার হন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বিশাল মিয়া (২২) ও রহিমা বেগম (২০) নামের তরুণ-তরুণী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত বিশাল পৌর শহরের চণ্ডীবের এলাকার সহিদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মোয়াজ্জেম মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বিশাল ও রহিমা মেঘনা নদীর ‘ত্রি-সেতু’ এলাকায় ঘুরতে আসেন। ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে গরু বাজার এলাকার দুই ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে বিশালের বাম উরুতে আঘাত করে এবং সঙ্গী রহিমার কাঁধেও জখম করে।
এরপর ছিনতাইকারীরা তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে পথচারী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ফারুক মিয়া নামের একজন জানান, খবর পেয়ে তিনি দৌড়ে গিয়ে ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করেন। ছেলেটির উরুতে ছুরিকাঘাতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল দেখে তিনি নিজের কফিশপ থেকে গামছা এনে পায়ে পেঁচিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, বিশালের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। ফলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্যদিকে রহিমার আঘাত মারাত্মক না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরমান মিয়া বলেন, মেঘনা ব্রিজ একটি দর্শনীয় এলাকা হলেও এটি এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নড়বড়ে নজরদারির কারণে পর্যটক ও স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি লোকমুখে শোনার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ঘটনাস্থলেও আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।