সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সংখ্যালঘু ভোটে নজর বিএনপি-জামায়াতের, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইসিতে অভিযোগ জামায়াতের

২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের মন জয়ে মাঠে দুই দল; নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জামায়াত সেনা মোতায়েন ও সদর উপজেলার ইউএনওকে সরানোর দাবি তুলেছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা জোরদার করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। আগামী ২৯ অক্টোবরের এই ভোটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রোববার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ জানিয়েছে জামায়াত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য দেলাওয়ার হোসেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রার্থী। তবে ভোটাররা মনে করছেন, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে।

আসনটির মোট ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের ভাষ্য, এর মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ পেয়েছিল ১ হাজার ৮৭৬ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ৫০৯। ফাড়াবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ ২ হাজার ১৯৬, দাঁড়িপাল্লা ৪৭৬। রাংরাই পুকুর শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল পান ১ হাজার ৩৫৩ ভোট, দেলাওয়ার হোসেন ২২৯। স্থানীয়দের হিসাবে এসব কেন্দ্রের বেশির ভাগ ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। এমন কেন্দ্রে বিএনপি আগের ফল ধরে রাখতে চায়, আর জামায়াত চায় ভাগ বসাতে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার গুপ্ত বলেন, নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘুদের মধ্যে একধরনের শঙ্কা কাজ করে। ভোটের পরে যেন কেউ ভয়ভীতি বা হামলার শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে তিনি তাঁদের ক্ষতি হতে দেবেন না। জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে হিন্দুদের ওপর হামলার সময় তাঁরা পাশে ছিলেন।

এর মধ্যে রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল। দলের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আহত ব্যক্তিদের ছবি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা প্রমাণ কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের তিন দফা দাবির মধ্যে আছে অভিযোগের তদন্ত, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন। জামায়াতের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএনও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন; তাই তাঁকে সরাতে হবে। রাতে বৈঠক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মসজিদে সভা ও চিকিৎসাসেবার নামে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে দলটি। এসব অভিযোগ নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

গোলাম পরওয়ার জানান, কমিশন স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে এখতিয়ার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে তাঁরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি; সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে ভোটে থাকবে বলে তিনি জানান। অতীতের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছিল; ঠাকুরগাঁওয়ে যেন তেমনটি না হয়। এদিকে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে নির্বাচনী এলাকা থেকে বহিরাগতদের অবিলম্বে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।