বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

পাঁচ বছরে মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ, কল ড্রপে ভোগান্তি চরমে

সাড়ে পাঁচ বছরে বিটিআরসিতে গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও টেলিটকের বিরুদ্ধে ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে; ক্ষতিপূরণের নিয়ম থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন।

মোবাইল ফোনে কল ড্রপ, কথা বলতে বলতে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা ভিডিও কল ও অনলাইন মিটিংয়ের সময় সংযোগ সমস্যা গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ বছরে গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও টেলিটক—এই চার মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৫৬টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিআরসিতে মোট ১১ হাজার ৪২৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে সেবার মান নিয়ে ছিল ৩ হাজার ৫২৯টি, ডাটার গতি নিয়ে ৯২৬টি, বিবিধ বিষয়ে ১ হাজার ৩৩১টি, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়ে ৮১১টি, লাইসেন্সসংক্রান্ত ৭৯৮টি, প্যাকেজ মাইগ্রেশন নিয়ে ৬৪৭টি, ডাটাসংক্রান্ত ৪৮১টি এবং রিচার্জ নিয়ে ৪৬৭টি। গত ১৯ আগস্ট বিটিআরসির এক গণশুনানিতেও গ্রাহকেরা সেবার মান, ডাটার গতি, রিচার্জ ও প্যাকেজ পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ জানান।

অভিযোগের বড় অংশই নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, কল ড্রপ ও ইন্টারনেটের ধীরগতি-সংক্রান্ত। নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যবহারকারীর অতিরিক্ত চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে কল ড্রপ হয় বলে তথ্য উঠে এলেও সমস্যা সমাধানে অপারেটরদের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কল ড্রপে আর্থিক ক্ষতিপূরণের নিয়ম থাকলেও তার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন আছে।

গ্রাহকেরা প্রত্যাশা করছেন, কল ড্রপের হার ও সেবার মান নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক পরীক্ষা, অপারেটরভিত্তিক সেবার মান মূল্যায়ন এবং ত্রুটি ধরা পড়লে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ব্যাংকার আরিফুর রহমান এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এয়ারটেল ও গ্রামীণফোনের দুটি সিম ব্যবহার করছেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, দুটি সিম ব্যবহার করেও নেটওয়ার্ক সমস্যায় মাঝে মধ্যে বিরক্ত হতে হয়।