চট্টগ্রাম ও রংপুরের পর এবার খুলনা বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই কর্মসূচির বহরে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন জামায়াতের নেতারা। কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের প্রত্যাশাও করছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে; পথসভা ও সমাবেশের স্থানগুলোয় মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং প্রচারপত্র বিতরণ, মাইকিং ও গণসংযোগ চলছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, ঢাকা থেকে খুলনা–কুষ্টিয়া অভিমুখের পথে ১৯টি জেলা পড়েছে। লংমার্চ নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রেঞ্জ ডিআইজিসহ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুলনায় প্রবেশের আগেই বহরে এক হাজার গাড়ি যুক্ত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাতটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটক থেকে লংমার্চের উদ্বোধন হবে। এতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের। বহর মাওয়া হয়ে মাদারীপুর–শরীয়তপুরের মাঝামাঝি নাওডোবা দিয়ে খুলনা বিভাগের দিকে যাবে। পথে নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ–চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ হবে। প্রথমে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের কথা থাকলেও প্রশাসন আট শর্তে আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
লংমার্চের পথ গোপালগঞ্জের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় সেখানে নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা গোপালগঞ্জে গেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এ কারণে কেউ কেউ সংঘাতের আশঙ্কা করছেন। ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গোপালগঞ্জ বাংলাদেশেরই অংশ, সেখানে বিরোধী দলের লংমার্চ ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তাঁর দাবি, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমছে বলেই বিরোধী দলের কর্মসূচিতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে, আর এবারের গাড়িবহর ও উপস্থিতি আগের দুই কর্মসূচির চেয়ে বেশি হতে পারে।
লংমার্চের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময়কার গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ–জ্বালানি–গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি–চাঁদাবাজি–দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ। ১১ দলের নেতাদের বক্তব্য, সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে; এর প্রতিবাদেই তাঁরা রাজপথে কর্মসূচি জোরদার করছেন।
এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যে থাকলেও এনসিপি পৃথক দল হিসেবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে চায় বলে দলটির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে লংমার্চের আগের দিন শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে দুই থেকে তিন হাজার লোকের জমায়েতের পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, এবারের লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ ‘প্রতীকী’ হতে পারে; আগের দুটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকলেও এবার প্রতিনিধি হিসেবে দু–একজন যেতে পারেন।