রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আগের সরকারের গাফিলতিতে বহু শিশুর প্রাণহানি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বনানীতে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ চার বছর গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলস্বরূপ, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী বিশাল পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। শনিবার বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং ওপেন টেন্ডার সিস্টেমের অজুহাতে বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে আগের সরকারের দীর্ঘসূত্রতা ও গাফিলতির খেসারত জাতিকে দিতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুর মধ্যে এক হাজারের মতো শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এই প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত বেদনাক্রান্ত ও লজ্জার বিষয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালিয়ে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত আছে, যা স্বাভাবিক টিকাদান কর্মসূচির সাথে অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুষ্টিহীনতার কারণে হাম পরবর্তী সময়ে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আইসিডিডিআরবি-র চিকিৎসকদের দেশীয় উদ্ভাবন মাত্র ১৫০ টাকা খরচে পানির বোতলে নাইট্রাস পেপারের মাধ্যমে কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহের যুগান্তকারী পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার শিশুর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী আরও বলেন, করোনার মতো বিশ্ব সঙ্কটেও আমাদের চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার কারণে উন্নত বিশ্বের তুলনায় আমাদের দেশে মৃত্যুর হার অনেক কম ছিল।