গাজীপুরের কালীগঞ্জে লাইসেন্স নবায়ন না করেই অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নিবন্ধিত ২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চারটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে ২১টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স, সেবার মান, চিকিৎসকের উপস্থিতি, রোগীর নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকিতে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচার, প্রসূতিসেবা, জরুরি চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও যথাযথ অনুমোদন থাকা জরুরি হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ।
অতীতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, বিভিন্ন পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত বছরের মার্চে অনুমোদনের কাগজ দেখাতে না পারায় জামালপুর ইউনিয়নের ‘জরিনা ক্লিনিক’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে সিলগালা করা হয়। সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অপারেশন থিয়েটারে যথাযথ যন্ত্রপাতি ও কাগজপত্র না থাকায় জামালপুরের বাসাইর বাজারের ‘নুবহা জেনারেল হাসপাতাল’কে ৫০ হাজার টাকা এবং কালীগঞ্জ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর করার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।