রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

লাহোরে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যয় বহন করবে পাকিস্তান সরকার

অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ৩৫ কর্মকর্তা ৯ থেকে ২২ নভেম্বর পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ নেবেন।

উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সরকারের ৩৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার পাঁচজন এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ৩০ জন রয়েছেন। লাহোরের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে ১৪ দিনের এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে ৯ নভেম্বর, শেষ হবে ২২ নভেম্বর। গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে পাকিস্তান সরকার; এ সফরে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তালিকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চারজন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুজন করে কর্মকর্তা আছেন; বাকিরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের। তাঁদের ৮ নভেম্বর ঢাকা ছাড়ার কথা।

তালিকার এক নম্বরে থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা জামান বলেন, পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে এই প্রশিক্ষণে দেশটির প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হয় তা শেখানো হবে। এ ছাড়া সুশাসন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নীতিকৌশল নিয়েও প্রশিক্ষণ হবে।

এর আগে গত মে মাসে প্রথমবারের মতো ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে ১৮ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয় দফায় যাচ্ছেন ৩৫ জন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ভারতের মুসৌরির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রশাসন একাডেমি ছিল বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ও ভিসা জটিলতার কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে এখন পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন সময়ে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। একজন কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি; পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির জন্য আপাতত কর্মকর্তাদের পাঠানো হচ্ছে, এরপর চুক্তি হবে। জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এ উদ্যোগে একটি কূটনৈতিক বার্তাও আছে; তাঁদের মতে, কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো উচিত।