চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী নিট লোকসান করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির হিসাবে এই লোকসানের অঙ্ক ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। অথচ গত বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটি প্রায় ৭৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।
বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৪১৪তম সভায় তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়। সভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।
লোকসানের প্রভাব পড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়েও। একক হিসাবে প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৪৯ পয়সা। সমন্বিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান ২০ টাকা ৪১ পয়সা। শুধু জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে একক হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান ১২ টাকা ২৭ পয়সা।
বড় লোকসানের কারণে ব্যাংকটির সম্পদমূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায়, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। সমন্বিত হিসাবে এনএভি ৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকার বেশি থেকে কমে ৩ হাজার ৮০৬ কোটি টাকার কিছু বেশি হয়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য একক হিসাবে ৪৩ টাকা ২৫ পয়সা থেকে কমে ২২ টাকা ২৭ পয়সায় নেমেছে।
প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক হয়ে গেছে। একক হিসাবে এটি ঋণাত্মক ৩৬ টাকা ৫৪ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ৮৯ পয়সা ধনাত্মক।
পর্ষদের সভায় উত্থাপিত নথিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ থেকে আয় কমে যাওয়ায় লোকসান হয়েছে। খেলাপি ঋণের উচ্চ মাত্রা এবং ব্যাংকসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আয় কমেছে। একই সঙ্গে আমানতের বিপরীতে মুনাফা খরচ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর নামে-বেনামে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যার সবই খেলাপি হয়ে পড়েছে বলে ব্যাংকের তথ্যে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বতন্ত্র পরিচালকেরা এটি চালিয়েছেন, এখন দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ ব্যাংক।