সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের; লক্ষ্যবস্তু ও হতাহতের তথ্য জানানো হয়নি

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সোমবার এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংসের কথা জানালেও লক্ষ্যবস্তু বা হতাহতের বিষয়ে কিছু বলেননি; গত সপ্তাহে সৌদি আরবে একের পর এক হামলার দাবি করেছিল হুথিরা।

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথে ভূপাতিত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সোমবার জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্যবস্তু কী ছিল বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, বিবৃতিতে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর দিয়েছে।

আনাদোলু জানায়, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে লড়াই করা এই জোট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানী রিয়াদ ও সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চলের দিকে পাঠানো ড্রোন ঠেকানোর কথা জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবিও করেছিল জোট।

তিন শহরে জরুরি সতর্কবার্তা

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের পৃথক বিবৃতির বরাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, জরুরি পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতা দেওয়ার জাতীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমের আবহা ও খামিস মুশাইত এবং পশ্চিমের তায়েফ শহরে অল্প সময়ের জন্য সতর্কবার্তা চালু করা হয়। পরে তিন এলাকাতেই বিপদ কেটে গেছে বলে জানায় সিভিল ডিফেন্স। বাসিন্দাদের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং জটলা বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কোন ধরনের হুমকির কারণে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, বিবৃতিগুলোতে তা বলা হয়নি; কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও দেওয়া হয়নি।

হুথিদের দাবি

সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হুথিদের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে আসেনি। তবে গত সপ্তাহে একাধিক হামলার দাবি করেছিল গোষ্ঠীটি। মিডল ইস্ট আই জানায়, ২৯ অক্টোবর হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁরা সৌদি আরবে ছয়টি হামলা চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রাস তানুরা ও রাবিগ তেল শোধনাগার, আবকাইকে আরামকোর একটি স্থাপনা, রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাজরানে সৌদি সেনাদের সদর দপ্তর। সৌদি আরব এসব হামলা নিশ্চিত করেনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানায়, এর আগে গত মঙ্গলবার সারি দাবি করেন, রিয়াদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং রাস তানুরা শোধনাগারে ‘বড় আগুন’ লেগেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য না করলেও রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানায়। তাদের ভাষ্য, রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি ভবন, একটি নির্মাণ প্রকল্প ও একটি গাড়ির ওপর পড়ে।

পটভূমি

ডনে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে শুরু হয়। এরপর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণা করে এবং সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ দখল করে। হুথিদের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের ঘন ঘন হামলার জবাবেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশ দখলের পর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরব তাদের বিরুদ্ধে জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাতে ইয়েমেনে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।