বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলে পদ্মা ও তিস্তাসহ দেশের নদীগুলো আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা না পাওয়ার পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। বর্ষার পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জোরালো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে; এমনকি বর্ষা মৌসুমেও নদীর কিছু অংশে পানির স্বল্পতা দেখা যায়। পদ্মার শাখা-উপশাখায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সমুদ্র থেকে আসা লবণাক্ত পানি ঠেলে সরানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধা পাচ্ছে, ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উত্তরাঞ্চল নিয়ে রিজভী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ কমেছে এবং ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব এর অন্যতম কারণ। বরেন্দ্র অঞ্চলের আর্সেনিক সমস্যা ও পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফারাক্কা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য গ্যারান্টি ক্লজ ছিল, কিন্তু ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা বাদ দেওয়া হয়। কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পানির হিস্যার প্রশ্নে কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে চায় না, তাই বাংলাদেশকেও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপের পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করতে গিয়ে তিনি পানিবিজ্ঞানী বি. এম. আব্বাসের ‘গঙ্গেস ওয়াটার ডিসপিউট’ বইয়ের কথা উল্লেখ করেন। বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মো. আনোয়ার কাদির ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।