বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলা

গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় থাকা অবস্থায় দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলা; নিহত নেতার ছেলে ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী। কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তীব্র নিন্দা।

ইসরায়েলের হামলায়
ছবি: ইসরায়েলের হামাস নেতাদের উপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন, কাতারের দোহায়, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ |রয়টার্স

মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন শীর্ষ নেতৃত্ব, তবে নিহত হয়েছেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে ও ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী। কাতার একে “সার্বভৌমত্বে নগ্ন আঘাত” আখ্যা দিয়েছে।

মঙ্গলবার দোহায় নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। লক্ষ্য ছিল মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় থাকা হামাস নেতৃত্ব। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিদেশি দূতাবাস ও স্কুলের আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। কয়েক ঘণ্টা আতঙ্কের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দেয় কাতারি কর্তৃপক্ষ।

হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা সুহাইল আল-হিন্দি আল জাজিরাকে জানান, নেতৃত্ব প্রাণে রক্ষা পেলেও নিহত হয়েছেন খালিল আল-হাইয়ার ছেলে ও তার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী। আরও কয়েকজন দেহরক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, “নেতৃত্বের রক্ত যেমন মূল্যবান, তেমনি প্রতিটি ফিলিস্তিনি শিশুর রক্তও সমান মূল্যবান।”

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাকে “ক cowardly” এবং “অপরাধমূলক” বলে নিন্দা জানায়। দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা দেয় দোহা।

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামলার দায় স্বীকার করে একে “সম্পূর্ণ ইসরায়েলি অভিযান” বলে আখ্যা দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও একে “সঠিক সিদ্ধান্ত” বলে সমর্থন দেন।

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, হামাস যেন প্রস্তাব মেনে নেয় কারণ ইসরায়েল ইতিমধ্যেই তার শর্ত মেনে নিয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটনের নীরব সমর্থন ছিল কি না। তবে হোয়াইট হাউস এখনো মন্তব্য করেনি।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

জিসিসি (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) কাতারের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।

সৌদি আরব, ইউএই, ওমান ও কুয়েত একে “বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ” ও “মারাত্মক উসকানি” বলেছে।

পাকিস্তান, মরক্কো, সিরিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক, জর্ডান ও লেবানন একে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এটি “আন্তর্জাতিক আইনের নগ্ন লঙ্ঘন।”

পোপ লিও সহ একাধিক বিশ্বনেতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হিজবুল্লাহ হামলাকে “অপরাধের নতুন মাত্রা” আখ্যা দিয়েছে। ইয়েমেনের হুথিরা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরণের হামলা গোটা আরব বিশ্বের জন্য হুমকির ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনাই হয়তো উপসাগরীয় নিরাপত্তার নতুন অধ্যায় শুরু করবে।

দোহায় পরিস্থিতি

বিকট বিস্ফোরণের পর শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে, গাড়ির জট তৈরি হয়, স্কুল থেকে শিশুদের তড়িঘড়ি করে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করলেও উদ্বেগ কাটেনি।

ফিলিস্তিনের জন্য এটি বড় ধাক্কা। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মুস্তাফা বারঘুতি বলেন, “এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। ইসরায়েল স্পষ্টতই শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতে চাইছে।”

গাজায় যুদ্ধ চলমান রেখেই ইসরায়েল জানাল, তারা হামাস নেতাদের বিশ্বের যেকোনো জায়গায় টার্গেট করবে। এ হামলার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কাতারকেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করল তেলআবিব।