রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে কারখানাশ্রমিক মারুফ ওরফে দুখু মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রাণঘাতী গুলিটি কার অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধলপুর ওয়াসা গেটসংলগ্ন সিটি পল্লি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি আউটফল ও তেলেগু কলোনি নামেও পরিচিত।
স্ত্রী মীম আক্তার রুনাকে ‘তাড়াতাড়ি রান্না করো, অনেক ক্ষুধা লেগেছে, আমি আসছি’ বলে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন মারুফ। কিছুক্ষণ পর স্বজনেরা খবর পান, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা বলছেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। দূর থেকে দুই পক্ষের ‘ঝামেলা’ দেখার সময় গুলিবিদ্ধ হন। কারা গুলি করেছে, তা তাঁরা বলতে পারছেন না। নিহতের মা সেলিনা বেগম জানান, ছেলের গলায় গুলি লেগেছিল; তবে এজাহারে ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা আছে।
ঘটনার পরপর দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারুফের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়েছিল। পরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলার বিষয়টি সামনে এলে তাঁর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধলপুরে মাদক কারবারিদের একটি বড় চক্র রয়েছে এবং সেখানে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ চলছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে সাদা পোশাকে চার সদস্যের একটি দল রেকির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। সেখানে মাদক দেখতে পেয়ে তাঁরা চারজনকে আটক করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাস্থলে ২৪৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৩৯ পুরিয়া হেরোইন পাওয়া যায়। আটক ব্যক্তিরা চিৎকার শুরু করলে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো হয়ে এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে তিনি দাবি করেন।
আসাদুজ্জামানের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে গুলি ছোড়ে, এরপর সদস্যদের ঘিরে ধরে মারধর করে এবং মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে দুই সদস্যের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তাঁদের পক্ষ থেকে চারটি গুলি ছোড়া হয়। তিনি জানান, হামলাকারীদের দিক থেকেও ছয় থেকে আটটি গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এসব গুলি কোন অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে কতটি গুলির খোসা মিলেছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মারুফের মৃত্যু এসআরবি সদস্যদের গুলিতে হয়েছে কি না, জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, সদস্যরা আকাশের দিকে গুলি ছুড়েছেন এবং অন্য পক্ষ থেকেও গুলি চলেছে; তাই কোন গুলিতে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। বাহিনীর মুখপাত্রও একই বক্তব্য দিয়েছেন। ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, এলাকাটিতে গাড়ি নিয়ে ঢোকা কঠিন; ভেতরে একটি পরিত্যক্ত চারতলা ভবন আছে, যেটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীরা ব্যবহার করেন।
ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।