ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান এ ধরনের ৪৭টি ঘটনা শনাক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার, আটটি ডিসমিসল্যাব এবং ছয়টি বাংলা ফ্যাক্ট।
রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি জায়গায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে কোথাও দাবি করা হচ্ছে পুলিশের গুলিতে একাধিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন, কোথাও আহত ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ বলে প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও, সম্পাদিত ফটোকার্ড, ভুয়া মন্তব্য এবং পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিও-ছবিও আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
যাচাইয়ে দেখা যায়, মা হারিয়ে দুই শিশুর কান্নার একটি ভিডিও ফেসবুকে এই দাবিতে ছড়ানো হয়েছে যে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীরা হামলা করে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে হত্যা করেছে। বাস্তবে ভিডিওটি চলমান আন্দোলনে নিহত কোনো শ্রমিকের স্বজনদের নয়। গত ১৬ অক্টোবর সাভারের আশুলিয়ার নোয়াপাড়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমি আক্তার (২৭) নামের এক নারী শ্রমিক। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন; ভিডিওটি সেই ঘটনার।
৩ নভেম্বর ‘পুলিশের গুলিতে আশুলিয়ায় আট শ্রমিক নিহত, আহত শতাধিক’ এবং ৪ নভেম্বর থেকে ‘হেমায়েতপুরে গুলি করে পাঁচজন শ্রমিককে হত্যা’র দাবি ছড়ানো হয়। এ ছাড়া গাজীপুর ও মিরপুরে কখনো দুজন, কখনো চারজন শ্রমিক নিহত হওয়ার দাবিও প্রচার করা হয়েছে। যাচাইয়ে দেখা যায়, এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই; গাজীপুর ও মিরপুরে শ্রমিক নিহত হওয়ার দাবিও সঠিক নয়।