দক্ষিণ কোরিয়া রোহিঙ্গা সহায়তায় জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচিকে ৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান
দক্ষিণ কোরিয়ার এই অর্থায়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তায় সহায়ক হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে ৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। এই অর্থায়ন মূলত খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি পরিষেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করার জন্য ব্যবহৃত হবে। এতে প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার রোহিঙ্গা, বিশেষ করে দুর্বল পরিবার এবং শিশু যারা শিক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকে, তারা উপকৃত হবে।
বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং ভাসানচরে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মানবিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ অর্থায়নের মাধ্যমে ডব্লিউএফপি ৩৬ হাজারেরও বেশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টির সহায়তা দিতে সক্ষম হবে। এছাড়া ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু স্কুল খাওয়া কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাবে।
এ অর্থায়ন রিচ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ যা ডব্লিউএফপি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথভাবে বাস্তবায়িত হয়। ডব্লিউএফপির ই-ভাউচার পদ্ধতি রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজন অনুসারে খাদ্য নির্বাচন করতে সহায়তা করে। যদি কোন নারীর অপুষ্টি ধরা পড়ে তবে পুষ্টি পরিষেবার আওতায় তাদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, 'যে রাষ্ট্র একসময় আন্তর্জাতিক সহায়তা পেয়েছে, সে এখন ডব্লিউএফপির পাশে দাঁড়িয়ে সারা বিশ্বে মানবিক সঙ্কটে আক্রান্ত মানুষদের সহায়তা করতে গর্বিত।' ডব্লিউএফপির বাংলাদেশে প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা উল্লেখ করেন, 'অতচ আন্তর্জাতিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি যাতে জীবন রক্ষা, মর্যাদার সংরক্ষণ এবং শিশু ও পরিবারের মৌলিক খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়।'
ডব্লিউএফপির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার নগদ সহায়তা এখন বাংলাদেশে মানবিক কার্যক্রমে পৌঁছেছে ১১.৯ মিলিয়ন ডলারে। ডব্লিউএফপি এবং দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অংশীদার রয়েছে।