গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদরাসায় প্রথম শ্রেণির এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে মাদরাসায় গিয়ে তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এতে প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে নিপীড়ন করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তের কাজ চলছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ১৯ অক্টোবর সোমবার মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। এরপর শিশুটি মাদরাসায় যেতে চাইছিল না। বাবা-মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়। ২১ অক্টোবর দুপুরে স্বজনেরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয় এবং শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় ৩০ বছর বয়সী অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়; তিনি এখন কারাগারে আছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী জানান, শিশুটি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় অফিস ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগ এনে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদরাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মেয়ের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি; তদন্ত চলছে।