শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খুলে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সঙ্গে স্বর্ণ-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

সিলেটে জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণনা শেষে ডেগ ও দানবাক্স থেকে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে।

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ এবং নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও মিলেছে। শনিবার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে এই গণনা হয়।

গণনা শুরু হয় সকাল ৯টার দিকে এবং শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে। পরে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত মানুষের সামনে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার ও ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মিলেছে ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭ দশমিক ৩৩ ইউরো ও হংকংয়ের ১০ ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফা গণনায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় পাওয়া গিয়েছিল প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা। গত ২২ জুন প্রথম দফায় প্রায় ১৭ লাখ এবং ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়। এসব অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

গত ১৮ জুন মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। একই সঙ্গে দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়। ওই উদ্যোগ নিয়ে তখন পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি সভা হয়। পরে একটি কমিটির ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় মাজারের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয়ে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।