নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের বিন্নারি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রথমে ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে। গ্রামবাসীরা অন্তত ২০টি মরদেহ দেখার কথা বলেছেন। আর মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
কারিম লামিদো স্থানীয় সরকার এলাকার বিন্নারি গ্রামে হামলাটি হয় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে। পুলিশ শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, বিপুল সংখ্যক বন্দুকধারী প্রচণ্ড গুলিবর্ষণ করতে করতে গ্রামে ঢোকে এবং দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী লুট করে। অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা খাদ্যদ্রব্য, ঘরবাড়ি, দোকান ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ আগে ১০ জনের মৃত্যুর কথা জানালেও পরে আরও মরদেহ উদ্ধার হয় এবং আরও মরদেহ খুঁজে পাওয়ার কাজ চলছে। অ্যামনেস্টির ভাষ্য, গ্রামটিতে ছড়িয়ে আছে মরদেহ, কিছু পুড়ে চেনার অযোগ্য, আর অনেকের খোঁজ মিলছে না বলে স্বজনেরা জানাচ্ছেন।
বেঁচে যাওয়া গ্রামবাসীরা জানান, জুমার নামাজের পরপরই মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা বলেন, মানুষ দিগ্বিদিক ছুটছিল, কেউ জানত না কোথায় নিরাপদ। তিনি ও আরেক গ্রামবাসী সাইদু নুহু বলেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর অন্তত ২০টি মরদেহ পাওয়া যায় এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহি জানান, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে দুজন করে সশস্ত্র লোক এসেছিল। তারা দোকান থেকে নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী লুট করে এবং পালিয়ে যাওয়া মানুষের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলও নিয়ে যায়।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত ভারী অস্ত্রে সজ্জিত অপরাধী চক্রগুলোর হামলা সম্প্রতি বেড়েছে। এসব চক্র গ্রামে হামলা চালিয়ে বাসিন্দাদের মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে এবং গবাদিপশু চুরি করে।
অ্যামনেস্টি এক বিবৃতিতে বলেছে, কর্তৃপক্ষ উত্তরের গ্রামীণ জনপদগুলোকে অস্ত্রধারীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রকৃত অঙ্গীকার দেখাতে হবে বলেও তারা মন্তব্য করেছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনার ধারাবাহিক ব্যর্থতাই তাদের বেপরোয়া করে তুলছে বলে অ্যামনেস্টির মূল্যায়ন।