বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ - পুতিনকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আলাস্কায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান না ঘটালে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আসন্ন আলাস্কা সম্মেলনের আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়াকে ‘খুবই গুরুতর পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। ইউরোপীয় ও ইউক্রেনীয় নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এই হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে ঘোষণা দেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ব্যর্থ হলে তাকে ‘খুবই গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এ বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো শান্তি চুক্তিতে যেন কিয়েভকে পাশ কাটানো না হয়।

আলাস্কায় আগামী শুক্রবার ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, বৈঠক সফল হলে তিনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুতিন ও জেলেনস্কিকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দেবেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আলোচনায় প্রয়োজনীয় উত্তর না মেলে, তাহলে দ্বিতীয় বৈঠক আর হবে না।

ইউরোপীয় নেতারা—জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ—এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাশিয়া যদি শুক্রবারের বৈঠকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে এবং ইউক্রেনকে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারা স্পষ্ট করেন, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে নেয়া যাবে না।

বার্লিনে মের্জের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, পুতিন শান্তি আলোচনার বিষয়ে ‘ব্লাফ’ করছেন এবং আলাস্কা বৈঠকের আগে ইউক্রেনের সব ফ্রন্টে চাপ সৃষ্টি করছেন। তার দাবি, রাশিয়া দেখাতে চাইছে যে তারা গোটা ইউক্রেন দখল করতে সক্ষম।

জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বৈঠক একটি ‘তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি’র দিকে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়, তবে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা ও তা আরও কঠোর করা জরুরি।

চ্যান্সেলর মের্জ বলেন, ইউক্রেন আলোচনায় রাজি থাকলেও রাশিয়ার দখলদারিত্বের আইনি স্বীকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত শক্তি দিয়ে পরিবর্তন করা যাবে না—এই নীতি বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি, কিয়েভকে দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিমা সহায়তা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক নিয়ে কিয়েভ ও ইউরোপে উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষত ট্রাম্প পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে ভূমি বিনিময় করতে হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লন্ডন থেকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ইউরোপে আবার শান্তি ফিরিয়ে আনা।

ইউরোপীয় নেতারা কিছুটা আশাবাদী হলেও শঙ্কা রয়ে গেছে—পুতিনের মতো দক্ষ আলোচকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ‘প্রায় অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা দোনেৎস্ক অঞ্চলের সুভোরোভো ও নিকানোভরোভকা গ্রাম দখল করেছে, আর ইউক্রেন প্রায় ডজনখানেক বসতি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।