শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

টেকনাফের হ্নীলার পাহাড়ে তিনজনের লাশ পড়ে থাকার খবর, সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো কেউ আটক নন

মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সৈনিক তিতাস শেখ নিহত হওয়ার পর হ্নীলার দুর্গম পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর টহল চলছে; লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির সময় এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ে টহল অভিযান চলছে। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে শুক্রবার বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের পরিচয় না জানা লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলার নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্ব দিকে পাহাড়ের একটি ঝিরিতে লাশগুলোর সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে; রাতে সম্ভব না হলে সকালে উদ্ধার করা হবে। ঘটনাস্থল ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অপরাধী যে-ই হোক, পার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসে যে হ্নীলার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫–১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে দুই পক্ষে গোলাগুলি হয়।

গোলাগুলির একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পাহাড়ে পড়ে থাকা লাশগুলোর পরিচয় এবং এ অভিযানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।