পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বিআরটিসি বাস থেকে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এক শিক্ষার্থী। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে পাবনা শহরের মুক্তমঞ্চ এলাকায় কয়েকজন ছাত্রী বাস থেকে নামছিলেন। সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা নামার আগেই চালক হঠাৎ দ্রুতগতিতে বাস ছেড়ে দেন। তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাঁকে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে, পরে অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে; তিনি চিকিৎসাধীন।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। তাঁদের সাত দফার মধ্যে আছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী চালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ওই চালককে আর বাস চালানোর দায়িত্ব না দেওয়া, প্রতিটি বাসে অন্তত একজন সহযোগী নিয়োগ, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ওঠার পর যাত্রা শুরু করা, চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং চালক ও সহযোগীদের শারীরিক-মানসিক সুস্থতা যাচাই। আন্দোলনকারী মো. মোশাররফ পারভেজ বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকেই পূর্ণ দায় নিতে হবে। আরেক শিক্ষার্থী মুহুস্তাসিন নাদির জানান, তিন দিনের মধ্যে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক কামরুজ্জামান খান বলেন, এমন দুর্ঘটনা কাম্য নয়; শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে তিনি বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ করেন। মঙ্গলবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীম আহসান হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বিআরটিসির উপমহাব্যবস্থাপকসহ চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সংশ্লিষ্ট চালকের চাকরি থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব-সংক্রান্ত চিঠি বিআরটিসি দেবে। বুধবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে চালকের পাশাপাশি হেলপার থাকবে, চালক ছাড়া অন্য কেউ বাস চালাতে পারবেন না এবং প্রতিটি বাসে অভিযোগ রেজিস্টার রাখা হবে। আহত শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিআরটিসিকে জানানো হয়েছে; কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলেছে। বাস বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং চালক-সহযোগীদের মাদকমুক্ত রাখতে ডোপ টেস্টের যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।