নওগাঁ শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একটি স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও অন্যটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বলাকা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে। একই রাতে নবজাতকের বাবা নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় গত ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এবং ২১ অক্টোবর নওগাঁর আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছিল। দুটি প্রতিবেদনেই গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ ও তাদের হৃদস্পন্দনের কথা উল্লেখ আছে। ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে দুই ভ্রূণের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার এবং ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ১৪৬ ও ১৪০ বার দেখানো হয়েছে। ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ওজন যথাক্রমে ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম লেখা আছে।
নবজাতকের বাবার ভাষ্য, একজন চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রীকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় এবং ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই সিজার হয়। অস্ত্রোপচারের পর একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হলেও অন্যটি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
প্রসূতি বলেছেন, অস্ত্রোপচারের আগে থেকেই তিনি জানতেন গর্ভে দুটি সন্তান আছে, কিন্তু পরে তাঁকে শুধু একটি কন্যাসন্তান দেখানো হয়। পরিবার প্রতিবাদ করলে তাঁর পেটের কাটা অংশ ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সেলাই না করে রাখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এ সময় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে সেলাই করা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
ক্লিনিকের মালিক বলেছেন, রোগী ওই চিকিৎসকের পরামর্শেই ভর্তি হয়েছেন এবং তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। বাচ্চা একটি না দুটি, তা কেবল ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পর নিবন্ধন নবায়ন না করেই কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, নবজাতকের বাবা থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।