কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন আহত ব্যক্তির বাবা।
স্থানীয় লোকজন জানান, শাহরিয়ার জামান বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার সময় শাহরিয়ার জামানের সঙ্গে ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। তিনি বলেন, শাহরিয়ারের শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন, বুকের আঘাতটি গুরুতর। হামলার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গচিহাটা গ্রামে, যেখানে তাঁদের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহরিয়ার বেশির ভাগ সময় গ্রামে থাকেন এবং পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ছেলের ওপর হামলার জন্য উপজেলার সহস্রাম-দুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের দায়ী করেন। তিনি লেখেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আখতারুজ্জামান মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আখতারুজ্জামান ফোন করে তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।