সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, সোমবার ভোরে রাজধানী রিয়াদের দিকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। এর জবাবে জোট ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে হুথিরা দাবি করছে, তারা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, ধ্বংস হওয়া দুটি প্ল্যাটফর্মের একটি ব্যবহার করা হয়েছিল রিয়াদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে। তিনি বলেন, হুথি গোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জোটের দাবি, হুথিদের বারবার হামলা ও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টার জবাবেই এই অভিযান এবং তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইন মেনে চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪২ মিনিটে রিয়াদের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সিভিল ডিফেন্সের সতর্কবার্তা আসে, যাতে ‘আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি’র কথা বলা হয়। কয়েক মিনিট পর আরেকটি বার্তায় জানানো হয়, হুমকি কেটে গেছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সোমবার ভোরে এক্সে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, তাঁরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ড্রোন দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশনগুলোতে হামলা চালিয়েছেন। সৌদি আরামকোর পরিচালিত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবুতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার আটকে দেওয়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে খামিস মুশাইত ও আহাদ রুফাইদায় এক সৌদি নাগরিক ও এক এশীয় প্রবাসী আহত হয়েছেন। তিনটি আবাসিক ভবন ও সাতটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারও পশ্চিম সৌদি আরবের কয়েকটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে, এর মধ্যে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওয়াদি আল-মুগাম্মাস এলাকাও রয়েছে।
রোববার ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৩টি অভিযানে প্রায় ২১৮ হুথি যোদ্ধা ও মাঠ কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে; তবে নিহত বা আহতের আলাদা হিসাব দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হুথিদের তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর জুলাইয়ে সংঘাত নতুন করে শুরু হয়। রোববার রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর আংশিকভাবে খোলার পর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সৌদি আরবে নিরাপত্তা হুমকি বাড়ার সতর্কতা দিয়েছে। হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দর এখনো তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে জানা গেছে।