রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

পটুয়াখালীর আন্ডারচরে বারবার গরু-মহিষ চুরি, এক পরিবারের ৯০টি গবাদিপশু খোয়া যাওয়ার দাবি

চর মোন্তাজ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন এই চরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, একটি মাত্র সাইক্লোন শেল্টার; বাসিন্দারা ঝড়ের সময় গবাদিপশু রাখার জন্য উঁচু ‘কিল্লা’ চান।

পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণের জনবসতি আন্ডারচর (স্থানীয়ভাবে চরআন্ডা) এলাকার বাসিন্দারা গরু-মহিষ চুরির উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চোরেরা একেক দফায় ৪০-৫০টি গরু-মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়। বাসিন্দা নাহিদ তালুকদার জানান, এক পরিবারেরই ৯০টি গরু ও মহিষ চোরেরা নিয়ে গেছে।

আন্ডারচর চর মোন্তাজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড। নদীর কারণে চর মোন্তাজ ও আন্ডারচর আলাদা হয়ে আছে। চর মোন্তাজ লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ, খেয়া বা ট্রলারে সেখানে যাওয়া যায়; লঞ্চে সময় লাগে প্রায় ৪৫ মিনিট, আর দক্ষিণ দিকের খেয়াঘাট থেকে খেয়ায় ১০-১২ মিনিট। ঘাট থেকে মূল বাজারে যেতে মোটরসাইকেল বা হাঁটাপথে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়; চরে কোনো অটোরিকশা নেই।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বাস করেন, যার মধ্যে ভোটার ১ হাজার ৪০০। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা আছে, তবে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। ওষুধের দোকানের বিক্রেতারাই চরে বড় ডাক্তারের ভূমিকা পালন করেন। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে গলাচিপা উপজেলায় নিতে হয়, যেখানে যেতে ট্রলারে চার ঘণ্টার মতো লাগে। রিজার্ভ ট্রলার ভাড়া চার-পাঁচ হাজার টাকা, আর জরুরি প্রয়োজনে স্পিডবোট ভাড়া নিলে আট-দশ হাজার টাকা খরচ হয়। স্থানীয় রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, আন্ডারচর থেকে গলাচিপা যেতে যত সময় লাগে, বাসে ঢাকা যেতেও এত সময় লাগে না।

ঘূর্ণিঝড়ের সময়ের জন্য চরে একটিমাত্র সাইক্লোন শেল্টার আছে, যেখানে অনেক কষ্টে দেড়শ জন আশ্রয় নিতে পারেন। তখন গবাদিপশুকে ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করে’ ছেড়ে দিতে হয় বলে জানান বাসিন্দারা। আজগর মৃধা ও নাহিদ তালুকদার দাবি করেছেন, স্থানীয় ভাষায় ‘কিল্লা’ নামে পরিচিত উঁচু টিলা তৈরি করে দিলে সামুদ্রিক ঝড়ের সময় গরু-মহিষ সেখানে রাখা সম্ভব হবে।