বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজার রুটে হাতি রক্ষায় রেললাইনে ৬ সেন্সর ক্যামেরা, ব্যয় ৪০ কোটি টাকা

সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেলপথে দুর্ঘটনা রোধে রেলওয়ের নতুন উদ্যোগ

ক্যামেরা
ছবি: কক্সবাজার রুটে হাতি রক্ষায় ক্যামেরা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের সংরক্ষিত বনের ভেতর হাতি সুরক্ষায় রেলওয়ে বসাচ্ছে আধুনিক সেন্সর ক্যামেরা। ৬ স্থানে বসানো হবে ৬টি রোবটিক ক্যামেরা, যা হাতির অবয়ব শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সংকেত পাঠাবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী রেলপথের প্রায় ২৭ কিলোমিটার অংশ সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে গেছে। বহু বছর ধরে এ অঞ্চল ছিল এশিয়ান হাতির স্বাভাবিক চলাচলের করিডর। রেললাইন নির্মাণের পর থেকে হাতির চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এর আগে হাতির নিরাপদ চলাচলের জন্য কয়েকটি আন্ডারপাস ও ওভারপাস তৈরি করা হলেও তা যথেষ্ট হয়নি। ফলে এখনো রেললাইনে হাতির মৃত্যু ঘটছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার

এবার এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ে ৬টি আধুনিক সেন্সরযুক্ত রোবটিক ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশ থেকে আনা এসব ক্যামেরা বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে হাতির অবয়ব শনাক্ত করবে। হাতি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেললাইনের পাশে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। সংকেত দেখে ট্রেন চালক গতি কমাতে বা ট্রেন থামাতে পারবেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত কিংবা ঘন কুয়াশার মধ্যেও সেন্সর ক্যামেরা কার্যকরভাবে হাতি শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

ব্যয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন

এই প্রকল্পে ক্যামেরা, সংকেতবাতি ও বৈদ্যুতিক কাজ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রেন চালক ও গার্ডদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প শেষে আরও বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

হাতির চলাচলের এলাকা

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চুনতি, ফাঁসিয়াখালী ও মেধাকচ্ছপিয়া সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেলপথের আশপাশে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি এশিয়ান হাতি বসবাস করে। এ হাতিগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চকোরিয়ার বনের মধ্যে বিচরণ করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে রেলপথে হাতির মৃত্যু অনেকাংশে কমে আসবে এবং মানুষ-প্রাণীর সহাবস্থান রক্ষায় এটি হবে একটি কার্যকর পদক্ষেপ।