রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানিতে ১৫–১৬ জনের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের; মন্তব্য করেননি মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান

নমুনা সংগ্রহ ও রপ্তানি সনদে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত রপ্তানিকারকেরা; অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলাদেশের কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানিতে ১৫-১৬ জন ব্যবসায়ীর একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রপ্তানি খাতের অনেক ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, মৎস্য অধিদপ্তর সবার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে না এবং সবাইকে রপ্তানির সনদও দিচ্ছে না। শুধু সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যবসায়ীদের নমুনা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁরাই সনদ পাচ্ছেন।

অভিযোগকারীরা বলছেন, বৈধ লাইসেন্স থাকার পরও সিন্ডিকেটের বাইরের ব্যবসায়ীরা বারবার অধিদপ্তরে গিয়ে খালি হাতে ফিরছেন। এতে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ অন্যের লাইসেন্সে সামান্য পণ্য পাঠিয়ে টিকে আছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় ওই গোষ্ঠী রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ব্যবসায়ীরা জানান, চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে কাঁকড়া ও কুচিয়ার চাহিদা বেশি। কিন্তু অধিকাংশ রপ্তানিকারক সুযোগ না পাওয়ায় বাজারের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমছে এবং শ্রমিক, সংগ্রাহক ও পরিবহনকর্মীদের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ছে।

বাংলাদেশ লাইভ অ্যান্ড চিল ফুড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সাবেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংগঠনের সদস্য ৩০০-এর বেশি। এঁদের প্রায় ৮৫ জনের চীনে কাঁকড়া ও কুচিয়া পাঠানোর অনুমোদন আছে, অথচ রপ্তানি করছেন মাত্র ১৫-১৬ জন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন জনকে আগের সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে এই ব্যবসা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সিন্ডিকেট এত শক্তিশালী যে বঞ্চিত ব্যবসায়ীরাও ভয়ে কথা বলছেন না।

রপ্তানিকারক প্রবীর জানান, তিন-চার মাস আগেও তিনি লাইসেন্সধারী অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য পাঠিয়েছেন, কিন্তু এখন অধিদপ্তর সেই প্রতিষ্ঠানের নমুনাও নিচ্ছে না। আরেক ব্যবসায়ী গোপাল বলেন, নতুন করে শুরুর জন্য নমুনা নেওয়া ও সনদ দেওয়া হচ্ছে না; অধিদপ্তরে গেলে বলা হয়, আপাতত নমুনা নেওয়া যাবে না এবং অভিযোগ থাকলে মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রপ্তানির প্রথম ধাপ নমুনা অনুমোদন। অধিদপ্তরের পরিদর্শক নমুনা পরীক্ষা করে কোডিং করেন, এরপর অনুমোদন ও সনদের প্রক্রিয়া শেষে পণ্য পাঠানো হয়। উত্তম নামের এক রপ্তানিকারক জানান, প্রতিটি নমুনার জন্য ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার দিতে হয়; খরচ ও প্রস্তুতির পরও নমুনা না নিলে ব্যবসায়ীরা শূন্য হাতে থাকেন। স্বাভাবিক সময়ে মাসে পাঁচ টন পণ্য পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও এখন অন্যের লাইসেন্সে তিনি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ কেজি পাঠাতে পারছেন বলে জানান।