অতীতে যে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই-২০০৬) ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার দেন। সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্টতা ও পেশিশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। সব ধরনের ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সেবাপ্রত্যাশী অসহায় মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আন্তরিক হতে এবং সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ পুলিশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব মোকাবিলায় সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বাহিনী ক্রমান্বয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
২০ বছর পর চাকরি ফেরা
পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে নিয়োগের জন্য বাছাই করা ৮৪ জন পুলিশ সার্জেন্ট ও ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে ২০০৭ সালে ‘দলীয় বিবেচনায়’ বাদ দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁদের জ্যেষ্ঠতাসহ চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর পর চাকরি ফিরে পাওয়া এই ২৪৬ জন পুলিশ সদস্যই আজ সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমি, সারদার অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন। কুচকাওয়াজে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, সাইফুল ইসলাম ও মো. আসাদুজ্জামান। ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম; একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হন মো. বোরহানুল ইসলাম, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে দেওয়ান গোলাম রসুল এবং শ্রেষ্ঠ শুটার নির্বাচিত হন মো. কামাল গনি।
একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে সার্জেন্ট ব্যাচের সদস্যরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। ক্যাডেট এসআই ব্যাচের সদস্যরা শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।