খুলনা নগরের যশোর রোডে রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষোভের মুখে সেটি নতুন করে আঁকা হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে শিল্পী মো. রেজাউল করিম (রেজা) প্রতিকৃতিটি পুনরায় আঁকার কাজ শুরু করেন এবং সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তা পুরোপুরি শেষ হয়।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে যে প্রতিকৃতির মুখ কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিকৃতির দুই পাশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে দুটি পোস্টারও লাগানো ছিল। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মীরা। শনিবার পুনরায় আঁকার আগে পোস্টার দুটি সরিয়ে ফেলা হয়, মুখে লেপন করা কালির ওপর সাদা প্লাস্টিক পেইন্টের প্রলেপ দিয়ে মার্কারি স্কেচ আঁকা হয় এবং এরপর রং করা হয়।
শিল্পী রেজাউল করিম বলেন, শিববাড়ী মোড় থেকে সঙ্গীতা হল পর্যন্ত তিনি ও তাঁর দল দেয়ালচিত্রগুলো এঁকেছিলেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক আবার আঁকতে বলায় তিনি কাজ শুরু করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কেউ যাতে তাঁকে ঝামেলায় ফেলতে না পারে, সে জন্য আঁকার সময় পুলিশ এবং বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা নিরাপত্তায় ছিলেন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে দেয়ালে খুলনার অতীত ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল; রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি তার একটি। কালি দেওয়ার ঘটনাকে তাঁর কাছে ‘হিংস্রতা’ মনে হয়েছে এবং এটি বিশ্বকবির প্রতি অসম্মান। প্রশাসকের কথায়, একটি ছবি মুছে দিয়ে একজন মানুষকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
প্রশাসক জানান, যারা এ কাজ করেছে তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশকে বলা হয়েছে এবং দেয়ালচিত্রগুলো অক্ষত রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করবে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
ওই দেয়ালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্প ও সুন্দরবনের চিত্রের পাশাপাশি এস এম সুলতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল। এর আগে ১০ অক্টোবর ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ; পরে মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।