নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে নারীর নেতৃত্ববিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস যৌথভাবে আয়োজিত তিন দিনের ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর অংশ হিসেবে সেমিনারটি হয়।
জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও অর্থনীতির মূলধারায় তাঁদের অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক কম। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, আর পুরুষের ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাল্যবিবাহ, শিক্ষার সীমিত সুযোগ ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে বিপুলসংখ্যক নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে না; নারীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে হবে।
জুবাইদা রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।
স্বাস্থ্য খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাঁদের ৮০ শতাংশই নারী হবেন। নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘ বিরতির পর কর্মক্ষেত্রে ফেরার সুযোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আয়, সঞ্চয় ও নিজের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নারীর ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি পরিবারের সামগ্রিক সক্ষমতাও বাড়ায় বলে মন্তব্য করেন জুবাইদা রহমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল সেবার মতো নতুন প্রযুক্তিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতের অর্থনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।