বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ, নিহত অন্তত ৬১

জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা—“যুদ্ধের নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায় শুরু হয়েছে”; গাজার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র হামলা, হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে উপকূলের দিকে পালাচ্ছে

সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এ পরিস্থিতিকে “যুদ্ধের নতুন ও বিপজ্জনক ধাপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযানে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্রে জানিয়েছে আল জাজিরা। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

গাজার পূর্ব ও দক্ষিণে ভয়াবহ অবস্থা

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজার শুজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা তীব্র গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে। দক্ষিণ জেইতুন অঞ্চলের প্রায় কোনো ভবনই অক্ষত নেই। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে এক হাজার ৫০০ এরও বেশি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে উপকূলের দিকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। আগে থেকেই বাস্তুচ্যুত এক মিলিয়নের বেশি মানুষ সেখানে গাদাগাদি করে বসবাস করছে।

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে। ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লাখো মানুষ আবারও পালাতে বাধ্য হবে, যা তাদের আরও গভীর বিপদে ঠেলে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিপর্যয় মানবিকতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের ফল। এটি থামতেই হবে।”

সহায়তা প্রার্থীদের ‘নিখোঁজ’ হওয়া

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, খাদ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে, জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। তারা একে “অসহনীয় ও অমানবিক অপরাধ” বলে উল্লেখ করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জিএইচএফ (GHF) সহায়তা সংস্থা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দুর্ভিক্ষে শিশু মৃত্যু

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরও চারজন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে, অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৭ জনে, যার মধ্যে ১২১ শিশু।
আল জাজিরার প্রতিবেদক তরিক আবু আজযুম জানিয়েছেন, “পরিবারগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে খাবারের জন্য। অনেকেই খালি হাতে ফিরছে আশ্রয়কেন্দ্রে।”

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত হওয়ার পর এ সংঘাত শুরু হয়। তারপর থেকে ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে গাজায় প্রায় ৬২ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ইসরায়েল বলছে, গাজা সিটি হলো হামাসের শেষ শক্ত ঘাঁটি। তারা শহর দখলে নিতে চায়, যদিও আন্তর্জাতিক মহল এ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।