বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার আপত্তি খারিজ করলো আন্তর্জাতিক আদালত

মিয়ানমারের আপত্তি খারিজের পর মামলাটি শুনানির জন্য অগ্রসর হবে।

আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলাটি অগ্রসর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক জান্তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার দাবি করেছিল যে গাম্বিয়া এই মামলা করার অধিকার রাখে না। তবে জোয়ান ডোনোহিউ নেতৃত্বাধীন বিচারক ১৯৪৮ এর গণহত্যা সম্মেলনের সব সদস্যই গণহত্যা প্রতিরোধ করতে পারে জানিয়েছেন। এর ফলে গাম্বিয়ার মামলাটি চলবে। গাম্বিয়া, যে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সম্মেলনের অংশীদার, এই মামলা করেছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে। বিচারকরা রায় দিয়েছেন যে গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব সব সদস্য রাষ্ট্রের আছে। ফলে এই মামলাটি প্রক্রিয়াগতভাবে পূর্ণ শুনানির দিকে অগ্রসর হবে। সুদীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর লেগে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া অপরিহার্য। গাম্বিয়ার তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এই মামলা শুরু করেন। এছাড়া গাম্বিয়াকে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার সমর্থন রয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল বলে জাতিসংঘের তদন্ত মিশন জানিয়েছে। ওই অভিযানে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এরপর ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে রোহিঙ্গা গোষ্ঠী ও অধিকার কর্মীদের দাবি, মিয়ানমার সরকারের পক্ষে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার বন্ধে কোন তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাদের স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব এখনো নিশ্চিত হয়নি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য অবাধ চলাফেরা ও নাগরিকত্ব বাধাগ্রস্ত করে রাখা হয়েছে এবং শত সহস্র রোহিঙ্গা কয়েকভাগ দশক ধরে বাস্তুচ্যুত ক্যাম্পে বসবাস করছে। যতোদিন তা বন্ধ না হয়, ততদিন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।