বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেলেন মস্তিষ্কের বার্ধক্যের ‘মাস্টার সুইচ’

একটি প্রোটিন ব্লক করলেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা

Brain
ছবি: ফিরিয়ে আনা সম্ভব স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কে FTL1 নামের প্রোটিন বন্ধ করলে বয়স্ক ইঁদুরদের স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পুরোপুরি ফিরে আসে।

মানব মস্তিষ্কের বার্ধক্য যেন অপ্রতিরোধ্য—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যায়, স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতা ক্ষয় হতে থাকে। কিন্তু মার্কিন গবেষকরা এমন এক আবিষ্কার করেছেন যা এই ধারণাকে উল্টে দিতে পারে।

 

যুগান্তকারী গবেষণা: এক প্রোটিনেই পরিবর্তন

ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসি সান ফ্রান্সিসকো (UC San Francisco)-এর গবেষকরা মস্তিষ্কে FTL1 নামের একটি প্রোটিনকে চিহ্নিত করেছেন, যা সরাসরি মস্তিষ্কের বার্ধক্যের জন্য দায়ী।

বয়স্ক ইঁদুরের মস্তিষ্কে দেখা গেছে, FTL1 প্রোটিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

এর ফলে তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যায়, নিউরনের মধ্যে সংযোগ দুর্বল হয়, আর কোষের শক্তি উৎপাদন ধীর হয়ে পড়ে।

 

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—যখন গবেষকরা এই প্রোটিন ব্লক করে দেন, তখন এর প্রভাব শুধু থেমে যায়নি, বরং পুরোপুরি উল্টে গেছে।

 

স্মৃতিশক্তি ফিরে পেল বয়স্ক ইঁদুর

FTL1 ব্লক করার পর:

ইঁদুরদের মস্তিষ্কে নতুন করে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা স্নায়বিক নমনীয়তা তৈরি হয়।

স্মৃতিশক্তি পরীক্ষায় তারা তরুণ ইঁদুরদের মতোই ভালো ফলাফল করে।

কোষের শক্তি উৎপাদন এবং মস্তিষ্কের সার্বিক কার্যকারিতা বেড়ে যায়।

 

অর্থাৎ, শুধু বয়সজনিত অবনতি ধীর হয়নি—বরং স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতা বাস্তব অর্থেই পুনরুদ্ধার হয়েছে।

 

‘মাস্টার সুইচ’ মিলল অবশেষে?

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, FTL1-ই হয়তো সেই দীর্ঘদিনের খোঁজা “মাস্টার সুইচ”, যা মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ করে।

এতদিন যেসব চিকিৎসা চেষ্টা করা হয়েছে, সেগুলো মূলত মানসিক অবনতি ধীর করেছে।

কিন্তু FTL1-কে টার্গেট করে হয়তো প্রথমবারের মতো বার্ধক্যের প্রভাব উল্টে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

মানব চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Nature Aging জার্নালে (২০২৫)।

যদিও এটি এখনো প্রাণীর ওপর সীমাবদ্ধ, গবেষকরা আশাবাদী যে একদিন মানুষের জন্যও কার্যকর ওষুধ তৈরি সম্ভব হবে।

প্রধান গবেষক লরা রেমেসাল বলেন—

> “আমরা দেখেছি FTL1 ব্লক করলে শুধু অবনতি থামে না, বরং মস্তিষ্কের তরুণ অবস্থা ফিরে আসে। এটি ভবিষ্যতের স্নায়ুবিজ্ঞানের জন্য অবিশ্বাস্য এক সম্ভাবনা।”

 

 

এর মানে কী হতে পারে?

যদি মানুষের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যায়, তবে এর সম্ভাব্য ব্যবহার অসাধারণ:

আলঝেইমার রোগ ও ডিমেনশিয়া চিকিৎসা

বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ প্রতিরোধ

স্নায়ুবিক পুনর্বাসন থেরাপি

মস্তিষ্কের সামগ্রিক কার্যকারিতা পুনর্গঠন

 

মস্তিষ্কের বার্ধক্যকে এতদিন অনিবার্য মনে করা হলেও UC San Francisco-এর এই নতুন গবেষণা সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। একটি প্রোটিন ব্লক করার মাধ্যমে যদি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তবে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিপ্লবী পরিবর্তন এনে দেবে।

যদিও মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনো অনেক দূরের বিষয়, তবে বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন—বয়সকে উল্টে দেওয়ার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে।