ঢাকার আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় একটি সোয়েটার কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কারখানার মালিক। তিনি বলেছেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এখন প্রায় এক হাজার ১০০ শ্রমিকসহ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আতঙ্কে আছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এন ডি সোয়েটার ফ্যাক্টরির চেয়ারম্যান আহাদুজ্জামান। তিনি জানান, ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে আশুলিয়া থানার মধ্য গাজিরচট রশিদ মার্কেট এলাকায় জমি কিনে সেখানে কারখানা চালিয়ে আসছেন।
আহাদুজ্জামানের অভিযোগ, সম্প্রতি স্থানীয় ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয় দেওয়া একজনসহ কয়েকজন তাঁর অফিসে গিয়ে প্রথমে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে পরে এক কোটি টাকা চাওয়া হয়। তাতেও সাড়া না দেওয়ায় ২২ অক্টোবর সকালে হেলমেট পরা ৪০–৫০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা সোয়েটারের সুতা, বডি ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।
মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এসে হামলাকারীদের বের করে দেন। কিন্তু পরদিন তারা আবার হামলা চালায়। এরপর থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন বলেও তিনি জানান।
কারখানা বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আহাদুজ্জামান। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ছাত্রদল নেতা পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে; পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগগুলো মালিকের একতরফা বক্তব্য, স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।