কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অর্থসংকটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদের নির্মাণকাজ। নতুন দ্বিতল ভবনের পিলার নির্মাণ শেষ হলেও টাকার অভাবে দেয়াল ও ছাদ ঢালাই করা যাচ্ছে না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে টিনের ছাউনির ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের এ মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে খলিল ব্যাপারী খড়, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরে কাঠ ও টিন দিয়ে সংস্কার করা হয়। খলিল ব্যাপারীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজাম্মেল হক ব্যাপারী ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে নতুন ঘর তোলেন, যেখানে দীর্ঘদিন নামাজ হয়েছে।
কয়েক বছর আগে সেই ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় ও পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তখন মসজিদ কমিটি ও মোজাম্মেল হক ব্যাপারীর বড় ছেলে মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন দ্বিতল ভবন করার উদ্যোগ নেন। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
নির্মাণকাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৯-১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্থানীয় একজন ৬০ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তবে দেয়াল ও ছাদ ঢালাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা যাচ্ছে না। মসজিদের নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। তাঁরা জানান, বৃষ্টি হলে চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে, আর রোদে ঘরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে।
স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ভিত্তি নির্মাণ করতে গিয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন; কারও কাছ থেকে অনুদান পাচ্ছেন না, কাজেরও অগ্রগতি নেই। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল ইসলাম নোমানী বলেন, আশপাশের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র, তাই বেশি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন না।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী বলেন, মুসল্লিদের অনুদানে যা আসে, তা দিয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতেই কষ্ট হয়; তাই কাজ শেষ করতে দেশ-বিদেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা চান তিনি। কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তিনি এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছেন; সুযোগ পেলে এ মসজিদের উন্নয়নেও চেষ্টা করবেন।