গাজায় পুত্রের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি ট্রিশ হেন্ডারসনের
ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পুত্রের মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান তার।
ট্রিশ হেন্ডারসন, যিনি গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত জেমস হেন্ডারসনের মা, যুক্তরাজ্য সরকারকে ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জেমস হেন্ডারসন এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মী ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে) কনভয়ে অবস্থানরত অবস্থায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন। এই কনভয়টি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাথে সমন্বয় করেই চলছিল এবং ডব্লিউসিকে-এর লোগো বহন করছিল। সেই সময় কনভয়টি ১০০ টনেরও বেশি খাদ্য সাহায্য সরবরাহ করেছিল।
এই হামলায় সাতজন সহায়ক কর্মী নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন জেমস হেন্ডারসন, জন চ্যাপম্যান, জেমস কারবি, সাইফ আবু তহা, জোমি ফ্র্যাঙ্ককম, ডামিয়ান সোবল এবং জেকব ফ্লিকিঞ্জার। ইসরায়েল এই হামলাকে একটি ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করে এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন যে, যুদ্ধের সময় এ ধরনের ভুল হতে পারে। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে এবং তিনজনকে তিরস্কার করে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ আগস্ট ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ হামলার বিষয়ে কোনো অপরাধমূলক তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন তাদের জবাব অস্বীকার করে এবং স্বতন্ত্র তদন্তের দাবি করে। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা তাদের এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে সমালোচনা করে।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার দিনের রাফ ইমেজ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এদিকে ব্রিটেন সেপ্তেম্বর ২০২৪-এ ইসরায়েলকে প্রায় ৩০টি অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করে, তবে এফ-৩৫ যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য ছাড় দেয়।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, সরকার এমন সব রপ্তানি লাইসেন্স প্রত্যাখ্যান করবে, যা দখলদারিত্বকে ‘সামগ্রিকভাবে সমর্থন’ করে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখনও সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। ট্রিশ হেন্ডারসন বলেন, “ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করুন। গাজার অবস্থা আমরা সবাই জানি।”