বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুই কনস্টেবলের যাবজ্জীবন

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর মামলায় তৎকালীন ফাঁড়িপ্রধানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন; আলামত লোপাটে তিনজনের সাত বছর করে কারাদণ্ড।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর মামলায় তৎকালীন ফাঁড়িপ্রধান উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় কনস্টেবল হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। আলামত ও তথ্য লোপাটের দায়ে ফাঁড়ির ‘টু-আইসি’ এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী এবং সিলেটের একটি অনলাইন পোর্টালের তৎকালীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, নোমান এসআই আকবরের আত্মীয়।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম জানান, মামলায় ৬৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রায় অনুযায়ী এসআই আকবরকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য একটি ধারায় তাঁকে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড। কনস্টেবল হারুন ও টিটুকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড। আলামত লোপাটের দায়ে বাকি তিনজনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড।

আসামিদের মধ্যে এএসআই আশেক এলাহী ছাড়া বাকি পাঁচজন বর্তমানে পলাতক। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিপি বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।