শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

অর্থপাচার-জালিয়াতির অতীত থাকলে বন্ধ শিল্পের ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ঋণ মিলবে না, নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনে গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন স্কিমে নতুন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক; ঋণ নিতে হলে গ্রাহককে অতীতে অর্থপাচার বা জালিয়াতিতে জড়িত না থাকার ঘোষণা দিতে হবে।

অতীতে অর্থপাচার, জাল-জালিয়াতি, তহবিলের অপব্যবহার বা ঋণের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, এমন বন্ধ শিল্পের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন স্কিম থেকে তাঁরা কোনো ঋণসুবিধা পাবেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঋণ নিয়ে নতুন করে অর্থ পাচার ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত।

স্কিমের নাম পরিবর্তন করে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা, ঋণের অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং পুনঃঅর্থায়নের আবেদনের সময়সীমা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণ পেতে আগ্রহী গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে একটি ঘোষণাপত্র দিতে হবে। তাতে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি অতীতে অর্থপাচার, জাল-জালিয়াতি, তহবিলের অপব্যবহার বা ঋণের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ নেওয়া হয়েছে, এই স্কিমের ঋণের ক্ষেত্রে সেই ব্যাংক অগ্রাধিকার পাবে। স্কিমের আওতায় দেওয়া ঋণের সব লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অ্যাকাউন্ট বা রেভিনিউ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, কিংবা পর্ষদের অর্পিত ক্ষমতায় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে ঋণ মঞ্জুর করতে হবে। ঋণ বিতরণের পরের সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনঃঅর্থায়নের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পাঠাতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করতে না পারলে ব্যর্থতার যথাযথ কারণ উল্লেখ করে আরও ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া আগের সার্কুলারগুলোতে ‘প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর জায়গায় ‘পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।