শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

জুলাই–সেপ্টেম্বরে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৪১,৮৭৯ কোটি টাকা, লক্ষ্যের প্রায় ৩১ শতাংশ কম আদায়

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক—তিন খাতেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ভ্যাটে।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা; আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় প্রায় ৩১ শতাংশ কম। এনবিআরের হিসাবে, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর ও আমদানি-রপ্তানি শুল্ক—কোনো খাতেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় তিন মাস ধরে আদায়–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ভ্যাটে। প্রান্তিকে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা; ঘাটতি ২০ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি গত বছরের চেয়েও ভ্যাট কমেছে। আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে লক্ষ্য ছিল ৪২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা, আদায় ৩৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা; ঘাটতি ৯ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্কে লক্ষ্য ছিল ৪২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা, আদায় ৩০ হাজার ১২৯ কোটি; ঘাটতি প্রায় ১২ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা।

এনবিআরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যবসা–বাণিজ্যের শ্লথগতির কারণে ভ্যাট ও শুল্ক আদায় কম হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার নিয়মের কারণে শুরুর দিকে নিয়মিত ভ্যাট পাওয়া যায়নি; এখন মাসে মাসে রিটার্ন দেওয়ার বিধান করায় ভ্যাট আদায় বাড়বে। এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. আবদুর রউফের মতে, তিন মাস পরপর রিটার্নের নিয়মে অনেক প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দাখিল করেনি, ফলে ভ্যাটও পরিশোধ করেনি। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ তিনটি কারণ দেখছেন: অর্থনীতির কম গতি, বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এনবিআরে কিছুটা প্রশাসনিক স্থবিরতা।

বৃহস্পতিবার এনবিআরের এক সভায় চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কর্মকর্তাদের কর আদায় কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন। লক্ষ্য পূরণ না হলেও গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (৯১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা) তুলনায় এবার আদায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে।