ঢাকায় জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় জনমনে চরম অসন্তোষ
সরকারের এই সিদ্ধান্তে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, জনজীবনে সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার ঘোষণায় জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সবজি, চাল, ডাল, ডিম ও মুরগির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া দূরপাল্লার পরিবহন ভাড়াও বেড়ে গেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আরও ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে।
সরকার বলছে, জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয়া হলেও মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং এর প্রভাব জনজীবনে কীভাবে পড়বে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সরকারি নির্দেশনায় ঘোষণা দেয়া হয়েছে, বাজারে পণ্যমূল্য বাড়ানো ঠেকাতে কঠোর মনিটরিং চালানো হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ব্যাপারে মন্ত্রীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে জানা গেছে।
জ্বালানি খাতের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সমালোচনা উঠে এসেছে। রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। জাহেদ উর রহমান বলেছেন, তিনি যদি সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হতেন, তাহলে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতেন এবং হাসিনার সময় হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, তার পদত্যাগের দাবিও জানাতেন।
দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সমস্যায় পড়েছেন। কৃষক করিম মিয়া ও মৎস্যজীবী সুখ রঞ্জন দাস বলেছেন, তাদের কার্যক্রম চালাতে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় বেড়েছে ব্যয়ের পরিমাণ। শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বলেছেন, তার সংসারের বাজেট পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জীবন যাপনের আর কোনো পথ থাকবে কি না।
এ পরিস্থিতিতে ঢাকার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স-এও পতন দেখা গেছে। ৪১.৭ পয়েন্ট হারিয়ে এ সূচক ৫,৫৫০ পয়েন্টে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে।