গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করলে মার্কিন সেনা সদস্যদেরও আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা বাহিনী সরাসরি হামলার পরিকল্পনা, সমন্বয় ও লক্ষ্যভেদে তথ্য সরবরাহ করায় যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এ সংঘাতের এক পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
US military personnel could face legal liability for assisting Israeli forces who commit war crimes in Gaza.
As a warring party, US forces could be jointly responsible for participating in laws-of-war violations by Israeli forces.
https://t.co/MKrGbctCXL pic.twitter.com/HeX3esR7Tq— Human Rights Watch (@hrw) August 26, 2025
HRW-এর ওয়াশিংটন পরিচালক সারা ইয়াগার বলেন, “মার্কিন সেনাদের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র গাজার সংঘাতে একটি যুদ্ধে জড়িত পক্ষ। ফলে মার্কিন সেনা বা কন্ট্রাক্টররা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে তারা ইসরায়েলকে “কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য” সরবরাহ করছে, যার ভিত্তিতেই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে মিলে হামাস নেতাদের খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে আরও সমর্থন দেন। তিনি প্রকাশ্যে গাজা “পরিষ্কার করে ফেলার” প্রস্তাব দেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে গণউচ্ছেদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য। মার্চে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ৪০০-র বেশি মানুষ নিহত হলে হোয়াইট হাউস স্বীকার করে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে এসব হামলার আগে পরামর্শ করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি অপর রাষ্ট্রকে অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য বা লজিস্টিক সহায়তা দেয় এবং সেটি যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হয়, তবে সহায়তাকারী রাষ্ট্রও আইনের দায় বহন করে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের ২০০১ সালের খসড়া আইনে বলা হয়েছে, “অবৈধ কর্মকাণ্ডে জেনেশুনে সহায়তা প্রদান করলেই রাষ্ট্র দায়ী হবে।”
বাইডেন ও ট্রাম্প উভয় প্রশাসনই ইসরায়েলকে ব্যাপক অস্ত্র সরবরাহ করেছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪.১৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলকে দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৭৫১টি সক্রিয় সামরিক বিক্রির চুক্তি কার্যকর ছিল, যার মোট মূল্য প্রায় ৩৯.২ বিলিয়ন ডলার।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশ্ব গণমাধ্যম বহুবার প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরাসরি গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় ব্যবহার হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ, সামরিক সহায়তা স্থগিত, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বাণিজ্যিক চুক্তি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সারা ইয়াগার বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্ট—কোনো রাষ্ট্র যদি অন্য রাষ্ট্রকে যুদ্ধাপরাধে সহায়তা করে, তবে সেই রাষ্ট্রও দায়বদ্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে জানতে হবে, তাদের অস্ত্র এখন গাজায় গণহত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে।”