রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: স্বামী মিজানুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ রোববার ২০১৯ সালের এই হত্যা মামলার রায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

আদেশ অনুযায়ী, আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার রায় ও নথিপত্র অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজার পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে আসামিপক্ষ নানা অজুহাতে যৌতুক দাবি করত এবং প্রায়ই মারধর করত বলে অভিযোগ ছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। বাদীপক্ষ বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠালেও মারধর থামেনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চর মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে স্বামী স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেন। খবর পেয়ে স্বজনেরা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।